
জাহান্নাম থেকে মুক্তির ১৫টি
অসাধারণ হাদীস!! ( পর্বঃ ১, হাদীস- ১, ২, ৩, ৪, ৫ )
================================
আসমা বিনতে ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যাক্তি তার (মুসলিম) ভায়ের অনুপস্থিতিতে (তার গীবত করা ও ইজ্জত লুটার সময় প্রতিবাদ করে ) তার সম্ভ্রম রক্ষা করে সেই ব্যাক্তি আল্লাহর নিকট এই অধিকার পায়
যে তিনি তাঁকে দোযখ থেকে মুক্ত করে দেন। ”( আহমদ, ত্বাবারানী, সহীহুল জামে- ৬২৪০ )কিন্তু এখন অবস্থা তো পুরোটাই উল্টো , কোথাও পূর্বের বা বর্তমান উলামা, বুজর্গ দের নিন্দা করা হলে আমরা প্রতিবাদ না করে বরং নিজেরাই অংশগ্রহন করি তবে নবী (সাঃ)-এর এ হাদিস থেকে তারাই শিক্ষা নিবে যারা জান্নাত যেতে ইচ্ছুক।
“আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘‘আদম সন্তানের মধ্যে প্রত্যেক মানুষকে ৩৬০ গ্রন্থির উপর সৃষ্টি করা হয়েছে। (আর প্রত্যেক গ্রন্থির পক্ষ থেকে প্রদেয় সাদকা রয়েছে।) সুতরাং যে ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বললো, ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বললো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বললো, ‘সুবহানাল্লাহ’ বললো, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বললো,মানুষ চলার রাস্তা থেকে পাথর, কাঁটা অথবা হাড় সরাল, কিম্বা ভাল কাজের আদেশ করলো অথবা মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করলো, (এবং সব মিলে ৩৬০ সংখ্যক পুণ্যকর্ম করল ), সে ঐদিন এমন অবস্থায় সন্ধ্যা করল যে, সে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূর করে নিলো।’’( মুসলিম শরিফ, হাদিস- ২২২০, হাদিস একাডেমী )যদি রাসূল (সাঃ) এর নিম্নে বর্ণিত হাদিসটি লক্ষ্য করেন– রাসূল (সাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি যদি প্রত্যেক ফরয নামাজের পর- “সুবহা-নাল্লাহ” (আল্লাহ কতই না পবিত্র-মহান)”« ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪ (৩৩ বার)“আলহামদুলিল্লাহ” (সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য) ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ، (৩৩ বার)“আল্লা-হু আকবার” (আল্লাহ সবচেয়ে বড়)” ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ (৩৩ বার) তারপর ১ বার নিম্নোক্ত দোয়া বলে« ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻻَ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ، ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻗَﺪِﻳﺮٌ ».(লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাই’ইন কদীর)। “একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তার কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তারই, সকল প্রশংসা তারই এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।”তাহলে ঐ ব্যক্তির সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা সমতুল্যও হয়।( মুসলিম শরিফ, হাদিস- ১২৩৯, হাদিস একাডেমী )
রাসুল (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ৪০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করবে এবং তাকবীরে তাহরিমা পাবে অর্থাৎ নামাজ আরম্ভ হওয়ার সময় উপস্থিত থাকবে আল্লাহ তাকে ২টি জিনিষ হতে মুক্তি দিবেন।
১- জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন এবং ২- মুনাফিকি থেকে মুক্তি দিবেন।( সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – হাদিস ২৪১, তাকবিরে উলার ফজিলত অধ্যায় )৪০ দিন একাধারে তকবির উলা পাওয়া সবার জন্য সহজ হবেনা,
তাই যদি আল্লহর রাস্তায় ৪০ দিনের জন্য বের হই তবে খুবইসহজ হবে এই তকবির উলা পাওয়া!
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) এবং আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তারা উভয়েই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি বলেছেন,‘‘ যে ব্যক্তি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার’[ ﻻَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺍﻟﻠﻪُ ﺃﻛْﺒَﺮُ ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সবচেয়ে বড় ) বলে, আল্লাহ তার সত্যায়ন করে বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য)
উপাস্য নেই এবং আমি সবচেয়ে বড়।’আর যখন সে বলে ‘লা -ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহ’ [ ﻻَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺣﺪَﻩُ ﻻَ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, আমি একক, আমার কোন অংশী নেই।’আর যখন সে বলে ‘লা -ইলাহা
ইল্লাল্লাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু’ [ ﻻَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟَﻪُ ﺍﻟﻤُﻠْﻚُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟﺤَﻤْﺪُ ] ( অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁরই এবং তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা), তখন আল্লাহ বলেন, 'হ্যা আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য
নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা আমারই এবং আমারই যাবতীয় প্রশংসা।’আর যখন সে বলে, ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ [ ﻻَ ﻪﻟﺇ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﻻَ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑﺎﻟﻠﻪِ ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমার প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই।’নবী (সাঃ) বলতেন, ‘‘ যে ব্যক্তি তার অসুস্থ অবস্থায় এটি পড়ে মারা যাবে, জাহান্নামের আগুন তাকে খাবে না।’’ (অর্থাৎ সে কখনো জাহান্নামে যাবে না।)( সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ৩৪৩০, দোয়া অধ্যায় )
No comments:
Post a Comment