Tuesday, November 7, 2017

জাহান্নাম থেকে মুক্তির ১৫টি অসাধারণ হাদীস!! ( পর্বঃ -৩, হাদীস - ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ )



Image may contain: fire, night and text


জাহান্নাম থেকে মুক্তির ১৫টি অসাধারণ হাদীস!! ( পর্বঃ -৩, হাদীস - ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ )
**********************

👉 ১১- আন্তরিকভাবে ‘ লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর স্বীকৃতি দেওয়া:-
ইতবান বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ“যে ব্যাক্তি একমাত্র আল্লহকে সন্তুষ্ট করার জন্য 

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, ক্বিয়ামতের দিন সে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার উপর জাহান্নাম হারাম হয়ে গেছে। ”( মুসনাদে আহমাদ- হাদিস -১৬৪৮২ )এ হাদিসের অর্থ এই নয় যে, শুধু আমি ১ বার মুখে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বললাম আর জান্নাত চলে গেলাম বরং যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর স্বীকৃতি দিবে তখনই তার উপর ইসলামের ফরয বিধানগুলো পালন করা আবশ্যক হয়ে যাবে ।
👉 ১২- কন্যাসন্তানদের ভালো ভাবে লালন-পালন করা:-
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার নিকট একটি মহিলা তার দুটি কন্যাকে সঙ্গে করে ভিক্ষা করতে (গৃহে) প্রবেশ করলো। কিন্তু সে আমার নিকট খেজুর ছাড়া আর কিছু পেলো না। আমি খেজুরটি তাকে দিলাম সে 
সেটিকে দুই খণ্ডে ভাগ করে তার দুটি মেয়েকে খেতে দিলো। আর নিজে তা হতে কিছুও খেলো না। অতঃপর 
সে উঠে বের হয়ে গেলো। তারপর নবী (সাঃ) আমাদের নিকট এলে আমি ঐ কথা তাঁকে জানালাম। ঘটনা শুনে তিনি বললেন, “ যে ব্যাক্তি একাধিক কন্যা নিয়ে সঙ্কটাপন্ন হবে, অতঃপর সে তাদের প্রতি যথার্থ সদ্ব্যবহার করবে, 
সেই ব্যাক্তির জন্য ঐ কন্যারা জাহান্নাম থেকে অন্তরাল (পর্দা) স্বরূপ হবে।” ( বুখারী শরিফ - ১৪১৮ )

👉 ১৩- ফরয সিয়ামের পাশাপাশি বেশি-বেশি নফল সিয়াম পালন করা:-
রসুল (সাঃ) বলেন “ রোযা ( জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য ) ঢালস্বরূপ ।” ( বুখারী শরিফ - ১৮৯৪ )রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন “যে ব্যাক্তি আল্লাহর পথে ১ দিন রোযা রাখবে, আল্লাহ্ ঐ ১ দিন রোযার বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম হতে ৭০ বছর (পরিমাণ পথ) দূরে রাখবেন ।”( বুখারী শরিফ - ২৮৪০ ) হাদিসে বর্ণিত কিছু গুরুত্বপূর্ণসিয়াম/রোযা পালনের দিনসমূহ (শাওয়াল মাসের রোযা)আবু আইয়ুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোযা পালন করলো অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা আদায় করল সে যেনো সাড়া বছর রোযা পালন করলো।’ ( মুসলিম : ২৮১৫ )( প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা) এ তিনটি রোযা আদায় করলে পূর্ণবছর নফল রোযা আদায়ের সওয়াব লাভের কথা এসেছে। একটি নেক আমলের সওয়াব 
কমপক্ষে দশগুণ দেয়া হয়। তিন দিনের রোযার সওয়াব দশগুণ করলে ত্রিশ দিন হয়। যেমন আবু কাতাদা রা. হতে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে—‘প্রত্যেক মাসে তিনটি রোযা ও এক রমজানের পর পরবর্তী রমজানে রোযা পালন পূর্ণ বছর রোযা পালনের সমান’।( মুসলিম শরিফ: ২৮০৪ )
👉 ১৪- মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকা:-
ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, “ রাসুলে আকরাম (সাঃ) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের জানাবো না, কোন ব্যাক্তি জাহান্নামের আগুনের জন্যে হারাম অথবা (বলেছেন) কার জন্যে জাহান্নামের আগুন হারাম? (তাহলে জেনে রাখো) জাহান্নামের আগুন এমন প্রতিটি লোকের জন্য হারাম, যে লোকদের কাছাকাছি বা তাদের সাথে মিলেমিশে থাকে; যে কোমলমতি নম্র প্রকৃতির ও মধুর স্বভাব বিশিষ্ট।”( সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ২৪৮৮, কিয়ামাত ও মর্মস্পর্শী বিষয় অধ্যায়)

👉 ১৫- সন্তান বা আপনজনদের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করা:-
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রসুল সা: বলেছেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে,তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে।’’ একজন বললেন, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে?’ 
তিনি বললেন, ‘ দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।’( বুখারী শরিফ- ১০১ )দুনিয়াবি কোন বিপদ থেকে বাচার জন্য আমরা কত রকমের উপায় অবলম্বন করে থাকি অথচ আমাদের সবচেয়ে বড় বিপদ জাহান্নাম থেকে বাচার জন্য এই 

উপায়গুলো সর্বাত্মকভাবে আঁকড়ে ধরা কি আমাদের জন্য জরুরি নয়? আল্লাহ তা’লা আমাদের এই আমলগুলো করার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার তাওফিক দান করুন, আমীন।

No comments:

Post a Comment