
::::: শবেবরাত পালন করা বিদ'আত। এর থেকে বিরত থাকুন :::::
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ্র যিনি ইসলামকে পূর্ণতা দান করেছেন। সালাত এবং সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় রাসুল (সঃ) এর উপর যিনি পূর্ণ দিন সঠিকভাবে স্বীয় উম্মাতের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন।
শবেবরাত কি ?
::::::::::::::::::::::
১৪ই শা'বানের দিবাগত রাতকে শবেবরাত বলা হয়, যা আমাদের দেশে ভাগ্য-রজনী বা মুক্তির রাত হিসেবে পালিত হয়। আর লোকেরা মনে করে, এ রাতে ভাগ্য লেখা হয়।
সুতরাং এ রাতে যে যত ভাল খাবে সারা বছর তাই পাবে, এ ধারনায় রাতে জেগে ইবাদাত করে আর দিনে সিয়াম সহ আনুষ্ঠানিকতার চরম বহিঃপ্রকাশ দেখায়।
শবেবরাত পালনের ভুয়া দলিলঃ
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
আমাদের দেশের বিভিন্ন মসজিদে, রেডিও, টিভি ও পত্র-পত্রিকায় লাগামহীন মনগড়া জোর প্রচারনা চালাতে দেখা যায়। যা শুনে সাধারণ মুসলিম বিভ্রান্ত হতে বাধ্য।
এর স্বপক্ষে সূরা দুখানের ৩ নং আয়াত দলীল হিসেবে পেশ করে বলা হয় যে, এ আয়াতে বর্ণিত (বারাকাতময় রাত) বলতে শবেবরাত বুঝান হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তারা যদি এর আগের অংশটুকু সামান্য একটু দেখতো তবে এতবড় জালিয়াতি করতে পারতো না।
যেখানে আল্লাহ্ বলেছেনঃ
وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ ۚ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ
অর্থাৎ হা-মীম, সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ, নিশ্চয়ই উহা নাযিল করেছি বারাকাতময় রাতে। (সূরা দুখানঃ ১-৩)
বলাবাহুল্য যে, কোন নাদান, মূর্খ বা বেকুব লোকেরাও বলবেনা যে, কুরআন মাজিদ শবেবরাতে নাযিল হয়েছে, বরং তা লাইলাতুল ক্বাদর এ নাযিল হয়েছে যা সবারই জানা।
সুতরাং কোন মহামান্য মুফাসসিরও যদি এর পরিপন্থি কোন কথা বলেন তবে তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য, পবিত্র কুরআন ও ছহিহ হাদিছের বিরোধী হওয়ার কারনে।
শবেবরাত নামটিও কুরআন হাদিসে নেইঃ
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
শবে বরাত বলুন আর লাইলাতুল বারায়াত বলুন কোন আকৃতিতে শব্দটি কুরআন মাজীদে খুজে পাবেন না। সত্য কথাটাকে সহজভাবে বলতে গেলে বলা যায় পবিত্র কুরআন মাজীদে শবে বরাতের কোন আলোচনা নেই। সরাসরি তো দূরের কথা আকার ইংগিতেও নেই।
তবে 'লাইলাতুন নিছুফ মিন শাবান' অর্থাৎ 'মধ্য শাবানের রাত্রি' এর ফজিলতে বর্ণিত কতক জাল/জইফ হাদিছ পাওয়া যায় যার দু/একটি গ্রহণ যোগ্য ধরে নিলেও ওর উপর ভিত্তি করে আলাদা কোন ইবাদাত সাব্বস্ত হয়নি।
যেখানে রাসুল (সঃ) বলেছেন,
'মহান আল্লাহ্ প্রত্যেক রাতের তৃতীয় প্রহরে নেমে আসেন.........'।
শুধুমাত্র সবেবরাতেই নয়। লোকে বলে, একে তো পচা খেজুর তারপরেও আবার ওজনে কম।
এ ব্যাপারে হাদীছ বিশারদগনের বক্তব্যঃ
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
হাফিয ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) তার কিতাব 'লাতায়িফুল মা'আরিফ' এ বলেন, উক্ত রাতে ছালাত আদায়ের ফজিলতের যে সকল হাদিস পাওয়া যায় তা বানোয়াট।
হাফিজ ইরাক্কী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মধ্য শাবানের রাতে সালাত আদায় সম্পর্কিত হদীছগুলি বানোয়াট বা জাল এবং এটা রাসুল (সঃ) এর প্রতি মিথ্যারোপ করার শামিল।
লোকদের এও ধারনা যে,
:::::::::::::::::::::::::::::::::::
এ রাতে মৃত ব্যক্তিদের রুহ দুনিয়ায় ফিরে আসে। সুতরাং তাদের স্বাগত জানানোর জন্য ধুপ-ধুনা, আতশবাজি এবং পটকা ফোটানো হয় সেই সাথে কবর জিয়ারাতের হিড়িক পরে যায়।
বলা নিস্প্রয়জন যে, মানুষ মরার পরে আবার দুনিয়ায় ফিরে আসা এটা হিন্দুদের অন্ধ বিশ্বাস প্রকৃত মুসলিম এমন আকিদাহ বিশ্বাস রাখতে পারেনা।
বলা হয়, উহুদের যুদ্ধে নবী সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাত ভেঙ্গেছিল বিধায় তিনি নরম খাদ্য হিসেবে হালুয়া রুটি খেয়েছিলেন। তাই শবেবরাতের খাদ্য হিসেবে হালুয়া রুটি খাওয়া হয়। অথচ উহুদের যুদ্ধ হয়েছিল ৩য় হিজরির শাওয়াল মাসের ১১ তারিখ শনিবার সকাল বেলায়। কোথায় বলে- 'চাচার কবর কোথায় আর চাচী কাঁদে কোথায়।'
কে চালু করলো এই জঘন্য বিদআত ?
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
৪৪৮ হিজরিতে সর্ব প্রথম ইবনু আবিল হুমাইলাহ নামক বুজুর্গ বাইতুল বুকাদ্দিসে এ শবেবরাতের ছালাত চালু করেন। পরে অবশ্য তিনি তাওবাহ করেছিলেন কিন্তু যা হবার তা তো হয়েই গেছে।
আর আলোকসজ্জা করা, পটকা ফাটানো। মোমবাতি ও আগরবাতি জালানো এ সব হিন্দুদের দিপালী পুজার অনুসরণে চালু হয়েছে।
মহান আল্লাহ্ বলেনঃ
অর্থাৎ 'তাদের কি এমন কতগুলো শরীক আছে যারা তাদের জন্য ধর্মের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ্ দেননি ?'
(সূরা শুরা, ২১)
হাদিসে রাসুল সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
''যে আমাদের এ ধর্মে এমন কিছুর প্রচলন করবে যা দ্বীনের মধ্যে ছিলনা তা প্রত্যাখ্যাত।''
বিদআত এর কুফলঃ
::::::::::::::::::::::::::::
•৷• •৷• বিদ'আতির তাওবাহ করার সুযোগ হয়না, কারন সেটা ভালো কাজ মনে করে তারা শুরু করেছে তাই তাওবাহ করে না।
•৷• •৷• বিদ'আতিরা রাসুল (সঃ) এর শাফা'আত পাবে না।
•৷• •৷• ওরা হাউজে কাউছারের পানি হতে বঞ্চিত হবে।
রাসুল (সঃ) বলেছেন,
'শুনে রেখ! হাউজে কাউছারের কাছে তোমাদের সাথে আমার দেখা হবে। তোমাদের সংখার অধিক নিয়ে আমি গর্ব করবো। সেই দিন তোমরা আমার চেহারা মলিন করে দিওনা।
জেনে রেখো ! আমি সেদিন অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চালাবো। কিন্তু তাদের অনেককে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হবে। আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক ! তারা তো আমার উম্মাত, আমার অনুসারী। কেন তাদের দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে ?
তিনি উত্তর দিবেন, আপনি জানেন না আপনি চলে আসার পরে তারা ধর্মের মধ্যে কি কি নতুন বিষয় আবিস্কার করেছে।' (হাদিস/সহিহ ইবনে মাজাহ)
শাবান মাস, রোজা রাখার প্রস্তুতি নিন!
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মুসলমানদের জন্য বছরের শ্রেষ্ঠ মাস হচ্ছে রামাযান মাস! এর পূর্বের মাস-ই হলো শা'বান মাস।
রাসুল (সঃ) সাধারনত প্রতি মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ নফল সাওম পালন করতেন। তাছাড়া তিনি সোমবার ও বৃহস্পতিবারও নফল রোজা রাখতেন। তবে রাসুল (সঃ) রমাদানের প্রস্তুতি স্বরুপ অন্য মাসের তুলনায় শাবান মাসে বেশী বেশী নফল সাওম রাখতেন।
যেমন হাদীসে বর্ণীত হয়েছে-
دَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يُفْطِرُ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يَصُومُ. فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلاَّ رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
আল্লাহর রাসুল (সঃ) যখন একধারে সাওম পালন করতেন তখন আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সাওম পরিত্যাগ করবেন না। আবার সাওম যখন পালন না করা অবস্থায় একাধারে কাটাতেন তখন আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর নফল সাওম পালন করবেন না।
আমি আল্লাহর রাসুল (সঃ) কে রামাদান ব্যতীত কোন পুরা মাস সাওম পালন করতে দেখিনি এবং শা’বান মাসের চেয়ে অধিক (নফল) সওম পালন করতে দেখিনি।
.
[বোখারী হা/১৯৬৯, ১৯৭০, ৬৪৬৫; মুসলীম হা/১১৫৬; আহমাদ হা/২৫১৫৫; আবু দাউদ হা/২৪৩৪; তিরমিযী হা/৭৩৬; মুআত্তা মালিক ১৮/৬৮৯]
.
সুতরাং আসুন শা’বান মাসে আমরাও রাসুল (সঃ) এর সুন্নাত অনুযায়ী বেশী বেশী করে নফল সাওম রাখার চেষ্টা করি!
আল্লাহর কাছে দু’আ করি, তিনি যেন আমাদেরকে রমাদান মাস পর্যন্ত হায়াত দান করেন এবং রমাদানের ফজীলত ও বরকত হাসিল করার তৌফিক দান করেন!
আমিন...!
সংকলনেঃ - শাইখ আমানুল্লাহ বিন ইসমাইল মাদানী
No comments:
Post a Comment