Tuesday, January 10, 2017

উত্তর দিয়েছেন শাইখ Abdullahil Hadi





প্রেগন্যান্ট অবস্থায় বেশি বেশি কোরআন খতম করলে কি নেক সন্তান পাওয়ার আশা করা যায়?
উত্তর : গর্ভবস্থায় কুরআন খতম দিলে বা অধিক পরিমান কুরআন পাঠ করলেই নেক সন্তান লাভ হবে হাদীস-কুরআনে এমন কোন কথা নেই। বরং এতে সুসন্তান পাওয়ার আশা করা যায়। কুরআনের বরকতে মনের মধ্যে এই আশা ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। কিন্তু এটা অপরিহার্য নয়। 
কেননা, সন্তান নেককার হবে না কি বদকার হবে তা সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। তবে পিতা-মাতার পক্ষ থেকে সন্তানকে নেককার বানানোর চেষ্টা থাকা জরুরি। আল্লাহ সে চেষ্টা কবুল করলে সে হেদায়েতের পথে থাকবে; অন্যথায় নয়।
তাই বলব, একজন গর্ভবতী নারী সাধ্যানুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করবেন, যিকির-আযকার, দুয়া ও অন্যান্য নেক আমলের প্রতি যত্নশীল হবেন, গুনাহ থেকে বাঁচবেন এবং মহান আল্লাহর নিকট দুয়া করবেন যেন, আল্লাহ তাকে চক্ষুশীতলকারী সুসন্তান দান করেন।
এমন কি সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরও ঈমান ও আমলের উপর অবিচল থাকার চেষ্টা করবেন। সেই সাথে সন্তানকে কল্যাণের পথে রাখার জন্য যথাযথ উপায় ও পদ্ধতি অবলম্বন করবেন। 
তাহলে আল্লাহ তাআলা যদি কবুল করেন তাহলে তার সন্তান নেককার ও পিতা-মাতার চক্ষুশীতল কারী হবে।
নিশ্চয় একমাত্র আল্লাহই হেদায়েতের মালিক ও তাওফিক দানকারী।

উত্তর দিয়েছেন শাইখ Abdullahil Hadi
প্রশ্ন : কোরআনের যে কোনো আয়াত বা সুরা আমরা আমাদের রোগ মুক্তির জন্য বা মনের আশা পুরনের জন্য ,আমাদের সুবিধা মতো কি নিয়মিত ভাবে আমল করতে পারি?
উত্তর : কুরআনের সুরা, আয়াত বা হাদীসে বর্ণিত দুয়াগুলো পড়ে দ্বীন ও দুনিয়ার যে কোন বিষয়ে মহান আল্লাহর দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করা জায়েয রয়েছে। কিন্তু দলীল ছাড়া তার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা, নির্দিষ্ট সময় বা বিশেষ কোন পদ্ধতি নির্ধারণ করা বৈধ নয়। এ ক্ষেত্রে নিজস্ব ইজতিহাদের কোন সুযোগ নেই।
তাই আমরা বলব, একজন মানুষ সন্তান লাভ বা দ্বীন ও দুনিয়ার যে কোন প্রয়োজন পুরণের জন্য কুরআন-হাদীসের দুয়ার পাশাপাশি নিজের ভাষায় মহান আল্লাহর দরবারে দুয়া করবে। এ ক্ষেত্রে হাদীসে বর্ণিত দুয়া কবুল হওয়ার আশা ব্যঞ্জক সময় ও স্থানগুলো খেয়াল করবে। 
‘রাব্বি হাবলি মিনাস সলিহিন’ সন্তান লাভের জন্য এ দুয়াটি পাঠ করা জায়েয রয়েছে কিন্তু তাহাজ্জুদের পরে ১০০ সংখ্যায় পাঠ করার কথা যেহেতু হাদীসে বর্ণিত হয় নি। তাই তা বিদআত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেউ কোন আমল করে উপকৃত হলেও তা শরীয়তে বৈধ হওয়ার প্রমান বহন করে না। কেননা, তাবিজ দ্বারাও মানুষ উপকৃত হয়, হিন্দু ঠাকুর, জাদুকর, গণকের গণকগীরি ও তন্ত্র-মন্তের সাহায্য ঝাড়ফুঁক দ্বারাও উপকার পাওয়া যায় কিন্তু তা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম।
আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তাওফিক দান করুন। আল্লাহু আলাম।

উত্তর দিয়েছেন শাইখ Abdullahil Hadi

No comments:

Post a Comment