
সালাতে সোজা হয়ে দাঁড়াবার সময় খেয়াল রাখতে হয় যেন দুই পায়ের উপর শরীরে ভার সমানভাবে পড়ে এবং দুই পায়ের মাঝে এমনভাবে ফাঁকা থাকে যাতে উভয় পার্শ্বের মুছল্লীর পায়ের সাথে নিজের গোড়ালী মিলে যায় এবং কাঁধের সাথে কাঁধ লেগে থাকে।
(উলামারা জাম’আতে এটাকে ওয়াজিব বলেছেন)।
(উলামারা জাম’আতে এটাকে ওয়াজিব বলেছেন)।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ রাসূল ﴾ﷺ﴿ বলেছেন,তোমাদের কেউ যেন সালাত আদায়ের সময় তার জুতা বাম অথবা ডান দিকে না রাখে। অবশ্য তার বাম দিকে যদি কোন লোক না থাকে তবে সেখানে রাখতে পারে। তবে জুতাদ্বয় স্বীয় পায়ের মাঝখানেই রাখা বাঞ্ছনীয়।
📚 (আবু দাউদ হা/৬৫৪, অনরুপ হা/৬৫৫)।
এই হাদীস দ্বারা একজন সালাতীর পা কতটুকু ফাঁকা রাখতে তার প্রমাণ মেলে। অতএব পুরুষ ও মহিলা মুছল্লী (সালাতী) স্ব স্ব কাতারে দু’পা স্বাভাবিক ফাঁকা করে দাঁড়াতে হবে। শর্ত হচ্ছে কাঁধে কাঁধ,পায়ে পা মিলানো। আর তা করতে গেলে, পা স্বভাবিক রাখতে হবে। অনেকে মত দিয়েছেন পুরুষের দু’পায়ের মাঝে চার আঙ্গুল মহিলাদের দু’পায়ে পা মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে এসব অযৌক্তিক, ভিত্তিহীন। উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বোঝা যায় পা কিভাবে ফাঁকা করে দাড়াতে হবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন যে ব্যক্তি সালাতে নিজের উভয় পা (এক সঙ্গে) মিলিয়ে দাড়ালো সে সুন্নাতের বিরোধিতা করলো।
📚 (নাসাঈ হা/ ৮৯৫ ইঃ ফাঃ)।
অনেকে মত দেন মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে পা কম ফাঁকা রাখবে। কিন্তু হাদীসে ছেলে, মেয়েদের ক্ষেত্রে একই শর্ত, ভিন্ন কোন দলীল পাওয়া যায় না। বাস্তব দিকটা দেখেলেও সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। জুতা জোড়া পায়ের মাঝখানে রাখতে হবে (প্রয়োজনে)। মেয়েদের পা এবং জুতা আকৃতির দিক থেকে পুরুষদের থেকে প্রাকৃতিক নিয়মে ছোট।
👥 (এ বিষয়ে মতের কি প্রয়োজন?)।
যে ব্যক্তি গায়ে গা মিলিয়ে কাতার সোজা করে সালাতে দাঁড়ায় আল্লাহ তাঁর সাথে সম্পর্ক রাখেন। অপরপক্ষে যে সালাতের কাতার সোজা করে না, মধ্যেখানে ফাঁক রেখে দাঁড়ায় আল্লাহ তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
📚 (নাসাঈ, হাকেম)।
সালাতে কাঁধে কাঁধ ও গিঁটে গিঁট লাগিয়ে দুই জনের মাঝে ফাঁক বন্ধ করা ও কাতার গুলো প্রথম থেকে সিরিয়াল অনুসারে পূরন করা ওয়াজিব।
রাসূল ﴾ﷺ﴿ বলেন,
‘‘যে ব্যাক্তি দুই জনের ফাঁক বন্ধ করবে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করবেন এবং এর দ্বারা তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।
📚 (সহীহ সনদে ত্বাবারানী আওসাত হা/৫৭৯৭ ,সিলসিলাহ সহিহা হা /১৮৯২ )।
‘‘যে ব্যাক্তি দুই জনের ফাঁক বন্ধ করবে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করবেন এবং এর দ্বারা তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।
জাবের বিন সামুরা (রাঃ) বলেনঃ রাসূল ﴾ﷺ﴿ আমাদের কাছে এসে বললেন, ফেরেশতা মন্ডলী যেমন তাদের প্রভূর সামনে কাতার বদ্ধ হয় তোমরা কি তেমন কাতার বদ্ধ হবে না? আমরা জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! ফেরেশতা মন্ডলী তাদের প্রভূর সামনে কিভাবে কাতার বদ্ধ হয়? তিনি বললেনঃ তারা আগের কাতার গুলো পূর্ণ করে এবং মাঝখানে ফাঁক না রেখে মিলিতভাবে দাড়ায়।
📚 (মুসলিম হা/৪৩০)।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ ﴾ﷺ﴿ বলেছেন তোমাদের সালাতের কাতারগুলো সোজা ও সমান্তরাল কর। কেননা কাতার সোজা করা সালাত পূর্ণাঙ্গরুপে আদায় করার অন্তর্ভূক্ত।
📚 (বুখারী হা/৭৩৩, মুসলিম হা/৪৩৩)।
অপর বর্ণনায়এসেছেঃ কেননা কাতার সোজা করা সালাত কায়েম করার অন্তর্ভূক্ত।
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল ﴾ﷺ﴿ বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং ফেরেশতাগণ তাদের প্রতি রহমত বর্ষন করেন, যারা কাতারবন্দী হয়ে সালাত আদায় করেন। আর যে ব্যক্তি কাতারের ফাঁক বন্ধ করে দাঁড়ায় আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।
📚 (আহমদ, ইবনে মাজাহ হা/৯৯৫, সনদ সহীহ)।
রাসূল ﴾ﷺ﴿ বলেন, ‘তোমরা কাঁধগুলো সমান কর ও ফাঁক বন্ধ কর এবং শয়তানের জন্য কোন জায়গা খালি ছেড়োনা’।‘কেননা আমি দেখি যে, শয়তান ছোট কালো বকরীর ন্যায় তোমাদের মাঝে ঢুকে পড়ে’।
📚 (আবু দাউদ হা/৬৬৬-৬৭; মিশকাত হা/১১০২,১০৯৩)।
#কাতার সোজা করায় ইমামের করণীয়ঃ
কাতার সোজা করায় ইমামের প্রথম কর্তব্য তাকবীর দেওয়ার আগে মুছল্লীদের টাখনুতে টাখনু ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এবং কাতার সোজা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া। অতঃপর কাতার সোজা হলে তাকবীর দেওয়া। এর বিপরীতে কোন সহীহ বর্ণনা নেই। অথচ এদেশের মসজিদ গুলোতে এর বিপরীত করা হয়। দুই মুছল্লীর মাঝখানে অনেক ফাঁকা করে দাঁড়ায় অথচ এর কোন হাদীস নেই। আর এটাই আমাদের মসজিদগুলোতে করা হয়। যা সুন্নাত বিরোধী।
সুন্নাত হল ইমাম সাহেব মুছল্লীদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলবেন, কাতার সোজা করুন, কাতার সোজা করুন, কাতার সোজা করুন।
📚 (নাসাঈ হা/৮১৩ অনরুপ বুখারী হা/ ৭১৯)
নুমান ইবনু বাশীর রাযি (আল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত , তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﴾ﷺ﴿ সমবেত লোকদের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনবার বলেন, তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা কর । আল্লাহর শপথ, অবশ্যই তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা করে দাঁড়াও । অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের অন্তরে মতানৈক্য সৃষ্টি করে দিবেন ।
বর্ণনাকারী নুমান রাযিআল্লাহু আনহু বলেন অতঃপর আমি এক লোকতে দেখলাম, সে তার সঙ্গীর কাঁধের সাথে নিজের কাঁধ, তার হাঁটুর সাথে নিজের হাঁটু এবং গোড়ালির সাথে নিজের গোড়ালি মিলিয়ে দাঁড়াচ্ছে।
নোমান বিন বশীর (রাঃ) বলেন, আমি লোকদেরকে তার সাথীর কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের গোড়ালীর সাথে গোড়ালী মিলিয়ে কাতার সোজা করার ব্যপারে মহানবী ﴾ﷺ﴿ এর আদেশ পালন করতে দেখেছি।
📚 (বুখারী ১/১০০ পৃষ্ঠা, অনুচ্ছেদ ৪৭, আযান অধ্যায়)।
ইবনু হাজার বলেন, নোমান বিন বশীরের বর্ণনার শেষাংশে ‘গোড়ালীর সাথে গোড়ালী’ কথাটি এসেছে। এর দ্বারা পায়ের পার্শ্ব বোঝানো হয়েছে। পায়ের পিছনের অংশ নয়, যেমন অনেকে ধারণা করেন।
📚 (ফাতহুল বারী ২/২৪৭ পৃষ্ঠা)।
সউদি আরবের সুপ্রিম উলামা কাউন্সিলের সদস্য শেখ সালেহ উসাইমিন বলেছেন, কাতার সোজা করার ব্যাপারে পায়ের গোড়ালীই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। গোটা শরীর গোড়ালীর উপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন জনের আঙ্গুল বড় ছোট আছে তাই আঙ্গুল কাতার সোজা করার ভিত্তি হতে পারে না। সাহাবায়ে কেরাম গণ একজন আরেকজনের সাথে গোড়ালী মিলিয়ে কাতার সোজা করতেন।
📚 (দুরুস ফাতাওয়াহ ফিল হারাম-আল-মাক্কী সালেহ উসাইমিন পৃষ্ঠা নং-৭৫)।
রাসূল ﴾ﷺ﴿ কাতারের মাঝখান দিয়ে এক ধার থেকে অন্য ধার পর্যন্ত যেতেন এবং বুক ও কাঁধ স্পর্শ করে কাতার সোজা করার নির্দেশ দিতেন।
📚 (আবু দাউদ হা/৬৬৪সনদ হাসান)।
হযরত উমর (রাঃ) জামা‘আতে সালাত আরম্ভের পূর্বে জামা‘আতে সালাতের কাতার সোজা করার জন্য মুছল্লীদের মধ্যে লোক পাঠাতেন। যখন উক্ত ব্যক্তি কাতার সোজার সংবাদ নিয়ে আসতেন তখন সালাত আরম্ভ করতেন।
📚 (মুয়াত্তা মালিক)।
হযরত উমর (রাঃ) কাতার সোজা করার উদ্দেশ্যে আবূ উসমান নাহদী (রাঃ) এর পায়ে আঘাত করেছিলেন।
বিল্লাল (রাঃ) যখন কাতার সোজা করতেন তখন মুছল্লীদের পায়ের গাটে চাবুক মেরে মেরে লাইন সোজা করতেন।
📚 (ফাতহুল বারী ৩/৭২৪, ইবনে হাজার আসকালীন)।
ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন,কাতার কোন ফাঁক দেখে তা বন্ধ করা চেয়ে আমার কাপড় খসে পড়া আমার নিকট অধিক প্রিয়।
📚(আল-মুসান্নাফ ১/৪১৬)।
ইমাম ইবনুল হাজ্ব বলেন,‘সাহাবায়ে কেরাম ছালাতের সফ তৈরির সময় কাধেঁ কাঁধ লাগিয়ে এমন শক্তভাবে মিলে দাড়াতেন যে তাদের জাম-কাপড়গুলো প্রথমত কাধেঁর দিক থেকেই আগে ছিঁড়ে যেত।
(আল-মাদখাল লি ইবনিল হাজ্ব পৃ-২৭৩/খ-২)।
(আল-মাদখাল লি ইবনিল হাজ্ব পৃ-২৭৩/খ-২)।
#ইমাম মুক্তাদী কিভাবে সালাতে দাঁড়াবেঃ
সালাতীর সংখ্যা ৩ জন হলে, ইমাম মাঝখানে দাড়াবে মুক্তাদী দু’পাশে দাড়াবে।
📚 (আবু দাউদ, বঙ্গানুবাদ আবু দাউদ হা/৬১৩)।
দুই ব্যক্তি একত্রে সালাত আদায়ের সময় ইমামের ডান পাশে দাড়াবে মুক্তাদী।
(মুসলিম, আবু দাউদ, বঙ্গানুবাদ আবু দাউদ হা/৬১১)।
(মুসলিম, আবু দাউদ, বঙ্গানুবাদ আবু দাউদ হা/৬১১)।
মহিলা হলে পিছনে দাড়াবে (স্বামী-স্ত্রী হলেও)।
📚 (আবু দাউদ বঙ্গানুবাদ হা/৬০৯)।
আবূ মালেক আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, — প্রথমে পুরুষদের কাতার করলেন এবং তার পিছনে বাঁচ্চাদের কাতার করলেন—অতঃপর—। বর্ণনাটি যঈফ। এই বর্ণনার সনদে শাহর
↕
ইবনু হাওসাব নামে একজন দুর্বল রাবী আছেন।
📚 (আবূ দাউদ, মিশকাত হা/১১১৫)।
ইবনু হাওসাব নামে একজন দুর্বল রাবী আছেন।
বাঁচ্চাদের মসজিদ থেকে দুরে সরিয়ে রাখো—।
(ইবনু মাজাহ ৭৫০)।
↕
এই বর্ণনাটি অত্যন্ত যইফ।
📚 (সিফাতু সালাতুন্নবী হাসিয়া ৮৩ পৃষ্ঠা)।
(ইবনু মাজাহ ৭৫০)।
এই বর্ণনাটি অত্যন্ত যইফ।
#কাতার থেকে শিশু-কিশোরদের সরিয়ে দেয়া জায়েয কি?
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, তার দাদী মুলায়কা একটি খাবার প্রস্তুত করে রাসূল ﴾ﷺ﴿ কে দাওয়াত দিলে তিনি তা খেলেন। এরপর রাসূল ﴾ﷺ﴿ বললেন, তোমরা উঠে দাড়াও আমি তোমাদের বরকতের জন্য সালাত আদায় করবো।— তখন একটি ইয়াতীম শিশু এবং আমি রাসূল ﴾ﷺ﴿ এর পিছনে কাতার বেধে দাঁড়ালাম। আর বৃদ্ধা মহিলা দাঁড়ালেন আমাদের পিছনে অতঃপর রাসূল ﴾ﷺ﴿ আমাদের জন্য দু’ রাক’আত সালাত আদায় করে চলে গেলেন।
📚 (মুসলিম হা/৬৫৮, বুখারী হা/৮৬০,৭২৭,তিরমিযী হা/২৩৪)।
উল্লেখ্য যে, হযরত আনাস (রাঃ) যে শিশুটিকে নিয়ে কাতারবন্দী হয়ে রাসূল ﴾ﷺ﴿ এর পিছনে সালাত আদায় করতে দাড়িয়েছিলেন তার নাম ছিল দুমাইরাহ ইবনে আবী দুমাইরাহ। উক্ত হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় বড়দের সাথে শিশুদের কাতারে স্থান দিতে কোনো অসুবিধা নেই বরং তা সুন্নাত। অন্যথায় বৃদ্ধা মহিলাটিকে যেভাবে হযরত আনাস ও ইয়াতীম শিশুটির পিছনে একাকী দাড় করানো হয়েছিল অনুরূপ ইয়াতীম শিশুটিকেও হযরত আনাস (রাঃ) এর পিছনে পৃথকভাবে একাকী দাড় করানো হতো। অর্থাৎ উক্ত তিনজনের জন্যই পৃথক তিনটি কাতার তৈরি করা হতো কিন্তু রাসূল ﴾ﷺ﴿ এমনটি না করে শুধু বৃদ্ধা মহিলাকে পৃথক কাতারে দাড় করিয়েছেন। হাদীসটির ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) লিখেছেন, এই হাদীস প্রমাণ করে যে, সালাতে পুরুষদের সাথে শিশুরাও একই কাতারে দাড়াতে পারবেন।
📚 (ফাতহুল বারী ২/৩৮০)।
ইমাম নববী বলেন, এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সালাতে পুরুষদের সাথে শিশুদের একই কাতারে দাড়াবার অধিকার আছে। আমাদের মাযহাবে এটাই বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ অভিমত।
📚 (সহীহ মুসলিম, বিশারহিন নববী ৫/২৬৬)।
ইমাম কাজী ইয়ায বলেন, সেই সকল শিশুরা যারা সালাত বোঝে তাদের জন্য জাম’আতে ইমামের পিছনে কাতারে দাড়ানোই বিধান।
📚 (ইকমালুল মুসলিম বি ফাওয়াইদি; মুসলিম ২/৬৩৭)।
ইমাম নববী বলেন, নিয়মান্তরে; সালাতের কাতারে দু’জন পরুষের মাঝখানে একটি করে শিশু দাড়াবে যাতে তারা সালাতের কার্যাবলী শিখতে পারে।
📚 (রওদ্বাতুত তালেবীন ১/৪৬৬, নায়লুল আওত্বার ৩/১১২২; ইমাম শাওকানী)।
ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেন, এই হাদীসে প্রমাণ করে যে, বড়দের সাথে একই কাতারে শিশুদের অবস্থান করার অধিকার রয়েছে।
কিশোর বা বালক যদি সালাতের কাতারে দন্ডায়মান হয়, তবে তাকে কাতার থেকে সরিয়ে দেয়া জায়েয হবে না। ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী ﴾ﷺ﴿ বলেন, “কোন লোক যেন অন্য লোককে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে না বসে”।
📚 (বুখারী হা/৮৬০)।
বৈধ কোন স্থানে যদি কেউ আগে বসে থাকে তবে তাকে সেখান থেকে উঠানো হারাম।
📚 (মুসলিম হা/৪০৪৪, সালাম অধ্যায়)।
তাছাড়া এতে বালকের অধিকার হরণ করা হয়, তার অন্তরে দুঃখ দেয়া হয়, হতে পারে সে সালাতকে ঘৃণা করবে বা তার অন্তরে হিংসা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হবে।শিশুদেরকে যদি কাতারের শেষে দাঁড় করানো হয়,তবে তারা তো একস্থানে সমবেত হয়ে হাসাহাসি ও খেলাধুলায় মত্ত হয়ে পড়বে। ফলে মুছল্লীদের সালাতের আরো ক্ষতি হবে। কিন্তু দু’জন বা ততোধিক যদি একই স্থানে দন্ডায়মান হয় তবে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য দু’জনের মাঝে বড়দের দাঁড়ানোতে কোন অসুবিধা নেই।
⬇
📚 (ফতওয়ায়ে আরকানুল ইসলাম বঙ্গ-২৬২,উসাইমীন)।
ফতওয়ায়ে আরকানুল ইসলাম বইয়ের অনুবাদক বলেন, যে সমস্ত শিশু সালাত বা তার গুরুত্ব সম্পর্কে কিছুই বোঝে না, তাদেরকে মসজিদে না নিয়ে আসাই উত্তম। কেননা তাদের অতিরিক্ত নড়াচড়া বা খেলাধুলার কারণে মুছল্লীদের সালাতে খুশু-খুজু (বিনয় নম্রতা) নষ্ট হয়। কেউ যদি তাদেরকে সাথে নিয়ে আসতেই চাই, তবে কাতারের মাঝে দাঁড় করাবে না। কাতারের এক প্রান্তে বসিয়ে রাখবে।
⬆
📚 (টিকা-১ পৃষ্ঠা ঐ)।
একা একা কাতারের পিছনে দাড়ানোঃ
মেয়েরা একা একা দাড়াতে পারবে।পুরুষেরা কাতারের পিছনে একা একা দাড়াতে পারবেনা। অনুরুপ সালাত আদায়ের জন্য নবী(ছাঃ)জৈনক ব্যক্তিকে পুনরায় সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
📚 (আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, মিশকাত হা/১১০৫)।
মেয়েরা একা একা দাড়াতে পারবে।পুরুষেরা কাতারের পিছনে একা একা দাড়াতে পারবেনা। অনুরুপ সালাত আদায়ের জন্য নবী(ছাঃ)জৈনক ব্যক্তিকে পুনরায় সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে কাতারে প্রবেশের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। কাতারে জায়গা না থাকলে বাধ্যগত অবস্থায় (পুরুষ)একা একা দাড়ানো যাবে। আল্লাহ কাউকেও তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপান না—।
আসুন আমরা সবাই আল্লাহ্ ﴾ﷻ﴿ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো পথ অনুসরণ করি। এবং আমাদের ভিতরে হয়তো মতপার্থক্য থাকতে পারে। তাই আসুন বিভেদ সৃষ্টি না করে কোরআন ও সহীহ হাদীসের দলিল দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করি তাহলেই আমরা পাবো কল্যায়ন।
আল্লাহ্ ﴾ﷻ﴿ আমাদের সকলকে সঠিক ইসলামী জ্ঞান দান করুক আমিন।
No comments:
Post a Comment