
বিষয়: ইমাম আবু হানিফা
আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত এই ধারনা টি কুরআন ও সহীহ হাদিস দ্বারা কতক্ষানি যৌক্তিক ভেবে দেখার বিষয়...!
কারণ আমরা এমন কোন আমলই করবোনা, যেটাতে রাসূলের নিষেধ রয়েছে।
তিন ব্যক্তি নবী ( স:)-এর স্ত্রীদের বাসায় এলেন। তাঁরা নবী (স:)-এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।
অতঃপর যখন তাদেরকে এর সংবাদ দেওয়া হল তখন তারা যেন তা অল্প মনে করলেন এবং বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে নবী (স:)-এর তুলনা কোথায়?
তার তো আগের ও পরের সমস্ত গোনাহ মোচন ক’রে দেওয়া হয়েছে। (সেহেতু আমাদের তার চেয়ে বেশী ইবাদত করা প্রয়োজন)।’
‘আমি সারা জীবন রাতভর নামায পড়ব৷”
আমি তোমাদের চেয়ে বেশী আল্লাহকে ভয় করি, তার ভয় অন্তরে তোমাদের চেয়ে বেশী রাখি। কিন্তু আমি (নফল) রোযা রাখি এবং রোযা ছেড়েও দিই, নামায পড়ি এবং নিদ্রাও যাই। আর নারীদের বিয়েও করি।
(বুখারী ৫০৬৩, মুসলিম ৩৪৬৯নং)
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৯৫
যারা বলে ইমাম আবু হানিফা এশারের ছলাতের এক ওযু দিয়ে ৪০ বছর ফযর ছলাত পড়েছেন কথাটি সহীহ হাদিসভিত্তিক কিনা।
উক্ত হাদিসে বলা হয়েছে যদি কেউ বলে সারা জীবনবর নামায পড়বে তাহলে সে রাসূলের উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারন রাসূল (স:) বলেছেন:
"আমি তোমাদের চেয়ে বেশী আল্লাহকে ভয় করি, তার ভয় অন্তরে তোমাদের চেয়ে বেশী রাখি। কিন্তু আমি (নফল) রোযা রাখি এবং রোযা ছেড়েও দিই, নামায পড়ি এবং নিদ্রাও যাই। আর নারীদের বিয়েও করি।"
তাহলে কেউ যদি রাসূলের চেয়ে বড় বুজুর্গ গিরী দেখায় নিশ্চয় সে ভন্ড ছাড়া আর কেউ নয়। কিন্তু আমরা জানি, ইমাম আবু হানিফা শ্রেষ্ঠ ফকীহদের একজন। তাহলে এখানে ভন্ডামি টা করলো কে?
ইমাম আবু হানিফার কোন কিতাবে এটা লিখা আছে? .... না নেই। কারণ কিনি তার মতামত লিখতে নিষেধ করতেন। তবুও ওনার প্রিয় ছাত্র "আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ "ইমাম আবু হানিফার মতামত সমন্ধে অনেক তথ্যই দিয়েছেন। তাঁর প্রিয় এদুজন ছাত্রের কেহ ই এমন কথা বলেন নি ও লিখেন ও নি।
তাহলে এই মিথ্যে গুলো প্রচার করলো কে? এত্ত বড় একজন স্কলারের নামে?
ইলিয়াসি তাবলীগ নয় তো...!?
তিনি ৪০ বছর ফযরের ছলাত আদায় করেছেন এশার ছলাতের ওযু দিয়ে। তার মানে তিনি ঘুমান নি, সারারাত ইবাদত করেছেন।
এখন আমার প্রশ্ন হলো , ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ্ জাহাঙ্গীর (রহ:) স্যারের ফিকহুল আকবর বই থেকে জানতে পারি যে ইমাম আবু হানিফার স্ত্রী ছিল, সন্তানাদি ও ছিল। এবং তিনি কোরআন হাদিস শিক্ষার আগ্রহ করেন, যখন তিনি ব্যবসা ভালভাবে বুঝেন। তার মানে তিনি তখন কিশোর/ যুবক ছিলেন।
তাহলে এই সময় থেকে আগামী ৪০ বছরের মাঝে নিশ্চয় বিয়ে করেছেন নিশ্চয়?
এমনকি স্ত্রী ও ছিল।
কিন্তু যখন দলীল চাই, তখন চুপ.!...!!
এখন বলেন, যদি তিনি সারা রাতই ইবাদত করে তাহলে তাঁর অংগ প্রতঙ্গের হক কিভাবে আদায় করেছেন? রাসূল তো নিদ্রা যাওয়ার কথা ও বলেছেন? আর বলেছেন, আমাদের উপর আমাদের অঙ্গ প্রতঙ্গের ও হক রয়েছে...!
যা নিচের হাদিস টি প্রমাণ করে:
⤵
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ( স:)-এর কাছে সংবাদ পৌছল যে, আমি সর্বদা সাওম (রোযা) পালন করে থাকি এবং সারা রাত্র সালাত আদায় করে থাকি।
তখন নবী ( স:)তার কাছে সংবাদ পাঠালেন কিংবা তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাত করলেন।
আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে,
"তুমি সর্বদা সাওম (রোযা) পালন কর;
সাওম (রোযা) ভঙ্গ কর না এবং সারা রাত্র সালাত আদায় করে থাক।"
তোমার চক্ষুর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে। তোমার শরীরের জন্য তোমার উপর হক রয়েছে। তোমার স্ত্রীর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে।
তিনি বলেন, তাহলে তুমি দাউদ ( স:)-এর সাওম (রোযা) পালন কর।
তিনি বলেন, দাউদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন সাওম (রোযা) পালন করতেন আর তিনি একদিন সওম ভঙ্গ করতেন আর তিনি শত্রুর মুখোমুখী হলে পলায়ন করতেন না।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৪০১
যেখানে সাহাবীরাই এমন টি করার অধিকার পায়নি, অথচ তাদের মর্যাদা কত ছিল..!
(সুবহান আল্লাহ্)
"যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। "
সূরা আহযাব আয়াত : ৫৮
উপদেশ: এইসব গাজাখুরী গল্প শুনে শুনে প্রচার করা থেকে বিরত থাকুন। একটা গল্প শুনেই যাচাই না করে "সুবহান আল্লাহ" বলতে যাবেনা। এমনি তে সারা দিন যিকির করেন, কিন্তু গল্প ও মিথ্যা বানোয়াট কাহিনী শুনে নয়।
পৃথিবীর যে কেহ যে কোন বুজুর্গ হোক, কুরআন ও হাদিস দিয়ে পরীক্ষা করুন, টিকে গেলে মেনে নিন। অন্যথায় ছুড়ে মারুন।
এমন কি আমি মিথ্যাবাদি হলে, আমাকে ও। আমীন। সুম্মা আমীন।
No comments:
Post a Comment